নারী ও দ্বিচারিতা
নিলয় মন্ডল
প্রতিবছর ইন্টারন্যাশনাল ওমেন’স ডে উপলক্ষে আমরা
নারীদের সম্মান,অধিকার,স্বাধীনতা প্রভৃতি বিষয়ে খুব মেতে উঠি।ফেবুর ফীড অজস্র
লেখা,বার্তায় ভরে যায়। কিন্তু, আজকের এই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুগে দাঁড়িয়েও
নারী,পুরুষের সমতা বিষয়টি পশ্চিমা দেশগুলো বাদে ভারত সহ বিভিন্ন দেশে কতখানি
প্রাসঙ্গিক? উত্তর আছে? প্রাচীনকাল থেকেই সমাজের কাঠামোটি পুরুষতান্ত্রিক।

পুরুষ
যুগে যুগে কালে কালে তার গাম্ভীর্য,ক্ষমতার প্রকাশ করে এসেছে।এই যুগে এসেও তার
অন্যথা ঘটেনি। আচ্ছা বলুন তো,অন্য দেশ নয়,ভারতীয় নারীদের কথায় বলুন,বর্তমান
সময়ে কতজন নারী রাস্তায় বেরিয়ে নিজেকে একাকী সেফ মনে করেন। কতজন নারী আত্মনির্ভর
হয়ে সমাজের গোড়া পুরুষ সমাজে নিজের জায়গা করে নিতে সফল হয়েছেন,বা জায়গা করে
কতটা সময় ধরে রাখতে পেরেছেন। আবার পুরুষদের মধ্যে বহুচারিতা রয়েছে প্রাচীনকাল
থেকেই।এবং খুব স্বাভাবিক ভাবে পুরুষের বহুচারিতাকে ‘ বীরত্বের প্রতীক’ হিসেবে ধরা
হয়। যেমন, জার্মানির রাজা সম্রাট কাংজির প্রায় ৩০০০ স্ত্রী ও উপপত্নী ছিল বলে
জানা যায়।আবার, ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরির ছয়টি বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু এই একই
ঘটনা যদি সমকালীন সময়ে কোনো রানি করতো।কোনো রানি যদি এমন অজস্র পুরুষের সঙ্গে
বিবাহ করতো।তবে ইতিহাসে তাঁর নাম কতখানি অসচ্চরিত্র,দুশ্চরিত্র হিসেবে লেখা থাকতো
সেটি স্পষ্টতই অনুমেয়। তবে, এমনই যদি হয় তবে শুধুমাত্র পুরুসসমাজের ক্ষেত্রেই
কেনো।নারী পুরুষে যদি সমতা হয় তবে একই কাজ কোনো নারী করলে তাঁকে কেনো
দুশ্চরিত্র,অসচ্চরিত্র এবং কোনো পুরুষ করলে তাঁকে বীর বলে অভিহিত করা হবে? আজকের
সমাজে দাঁড়িয়েও এই বিষয়টি কতখানি প্রাসঙ্গিক ভেবে দেখবেন। আর আমরা কি না, ফেবুতে
এসে বিজ্ঞ সেজে নারী পুরুষের সমতার কথা বলি!
0 Comments